২১শে ফেব্রুয়ারি শুধু একটি তারিখ নয়, এটি আমাদের ইতিহাস, আমাদের আত্মত্যাগ আর আমাদের মাতৃভাষার প্রতি ভালোবাসার প্রতীক। ১৯৫২ সালের এই দিনে যারা বুকের রক্ত দিয়ে বাংলা ভাষার অধিকার রক্ষা করেছিলেন, তাদের কারণেই আজ আমরা গর্বের সাথে বাংলা বলতে পারি।
এই দিন আমাদের শেখায়—ভাষা শুধু কথা বলার মাধ্যম নয়, এটি একটি জাতির আত্মপরিচয়। মাতৃভাষার জন্য জীবন দেওয়ার মতো সাহস পৃথিবীর ইতিহাসে খুব কমই দেখা যায়। ভাষা শহীদদের সেই ত্যাগ আজও আমাদের পথ দেখায়।
২১শে ফেব্রুয়ারি আমাদের মনে করিয়ে দেয়, ঐক্য আর সাহস থাকলে অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো যায়। এই দিনটি কোনো ব্যক্তি বা দলের নয়—এটি পুরো জাতির, পুরো বাংলাভাষী মানুষের।
আজকের দিনে আমাদের দায়িত্ব শুধু ফুল দেওয়া নয়, বরং বাংলা ভাষাকে ভালোবাসা, সঠিকভাবে ব্যবহার করা এবং পরবর্তী প্রজন্মকে এর গুরুত্ব বোঝানো।
ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা।
২১শে ফেব্রুয়ারি হোক আমাদের চেতনায়, আমাদের কথায়, আমাদের কাজে।
২১শে ফেব্রুয়ারি আমাদের শেখায়—অন্যায়ের কাছে মাথা নত না করতে, নিজের পরিচয়কে আগলে রাখতে। এই দিনটি কোনো দল বা ব্যক্তির নয়, এটি পুরো জাতির, পুরো বাংলাভাষী মানুষের।
আজ আমরা শুধু ফুল দিয়ে শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানাই না, আমরা প্রতিজ্ঞা করি—বাংলা ভাষাকে ভালোবাসবো, সম্মান করবো, আর আগামী প্রজন্মের কাছে এর ইতিহাস তুলে ধরবো।
শহীদদের রক্তে রাঙানো এই দিন আমাদের হৃদয়ে চিরজীবন বেঁচে থাকুক।
মাতৃভাষার জন্য যারা প্রাণ দিয়েছেন, তাদের প্রতি গভীর ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা। ❤️❤️❤️❤️
ফেসবুক লাইভে নেতা হওয়া যায়, কিন্তু দেশ চালাতে মাঠের রাজনীতি লাগে।
নাসির উদ্দিন পাটুয়ারী NCP (জাতীয় নাগরিক পার্টি)-এর একজন পরিচিত নেতা। তিনি তরুণ রাজনীতি, সংস্কার ও নতুন ধারার রাজনীতির কথা বলেন। তবে তার বক্তব্য ও কর্মকাণ্ড নিয়ে নানা মহলে বিতর্ক ও প্রশ্ন উঠেছে।
নাসির উদ্দিন পাটুয়ারী জাতীয় নাগরিক পার্টি (NCP)-এর একজন পরিচিত নেতা। তিনি মূলত তরুণ প্রজন্মকে রাজনীতিতে সম্পৃক্ত করা, রাজনৈতিক সংস্কার এবং নাগরিক অধিকার নিয়ে কথা বলে পরিচিতি পেয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন আলোচনামূলক সভায় তিনি নিয়মিত রাজনৈতিক মতামত প্রকাশ করেন।
তিনি নিজেকে নতুন ধারার রাজনীতির প্রতিনিধি হিসেবে তুলে ধরেন এবং বলেন—
দেশে জবাবদিহিমূলক, স্বচ্ছ ও গণতান্ত্রিক রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করাই তার মূল লক্ষ্য।তিনি বিভিন্ন সময় ক্ষমতাসীন রাজনীতি ও প্রচলিত রাজনৈতিক ব্যবস্থার সমালোচনা করে থাকেন এবং বিকল্প রাজনৈতিক চিন্তাধারা তুলে ধরার চেষ্টা করেন।নাসির উদ্দিন পাটুয়ারী সাহেবের বক্তব্যে আবেগ আছে, কিন্তু বাস্তবসম্মত রাজনৈতিক রূপরেখা নেই। শুধু সরকারবিরোধী কথা বললেই নেতা হওয়া যায় না—দেশ চালাতে লাগে অভিজ্ঞতা, সংগঠন ও দায়িত্বশীলতা। আমরা স্লোগান নয়, চাই স্পষ্ট কর্মপরিকল্পনা।”
তিনি কি কেবল সোশ্যাল মিডিয়ার নেতা, নাকি মাঠের রাজনীতিতে প্রমাণিত?নাসির উদ্দিন পাটুয়ারীর রাজনীতি আজ বক্তৃতা নির্ভর, কিন্তু বাস্তব পরিকল্পনাহীন। তিনি আবেগ দিয়ে মানুষকে আকৃষ্ট করেন, কিন্তু দেশ পরিচালনার মতো স্পষ্ট দৃষ্টিভঙ্গি এখনো দেখাতে পারেননি। রাজনীতি শুধু সমালোচনার জায়গা নয়—এটা সমাধানের জায়গা।”আমি মনে করি ,নাসির উদ্দিন পাটুয়ারীর মত কয়েক জনের জন্যে NCP ও জামাতের অপর মানুষের ভালবাসার আস্থা হারাবে। জনপ্রিয়তা আর যোগ্যতা এক জিনিস না।!!
নাসির উদ্দিন পাটুয়ারী সাহেবের রাজনীতিতে আবেগ ও বক্তৃতা আছে, কিন্তু বাস্তবসম্মত রাজনৈতিক রূপরেখা নেই। শুধু সরকার বা ব্যবস্থার সমালোচনা করলেই বিকল্প নেতৃত্ব প্রমাণ হয় না। দেশ পরিচালনার জন্য প্রয়োজন সুস্পষ্ট কর্মসূচি, সংগঠন ও দায়িত্বশীলতা।
রাজনীতি সোশ্যাল মিডিয়ার জনপ্রিয়তা দিয়ে নয়, জনগণের পাশে দাঁড়িয়ে হয়।
বর্তমানে তাকে বলা যায়—
তিনি একজন আলোচনামুখী ও সমালোচনামূলক রাজনৈতিক কণ্ঠ, কিন্তু পূর্ণাঙ্গ বিকল্প নেতৃত্ব হিসেবে গড়ে ওঠার প্রক্রিয়ায় আছেন।
সংক্ষেপে
ভোটে পরাজয়ের পর নাসির উদ্দিন পাটুয়ারীর জীবনধারা নির্ভর করবে—
তিনি কি মাঠের রাজনীতি ও সংগঠন গড়ার পথে যাবেন, নাকি শুধু বক্তব্যনির্ভর রাজনীতিতেই সীমাবদ্ধ থাকবেন।চিৎকার নয়, চাই মির্জা আব্বাসের মতো শান্ত ও সংযত নেতৃত্ব।”
NCP-এর কিছু নেতার দিন শুরু হয় আওয়ামী লীগ নিয়ে কথা বলে, আর দিন শেষও হয় আওয়ামী লীগ নিয়েই। নিজেদের রাজনৈতিক কর্মসূচি নেই, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নেই—শুধু এক দলকে কেন্দ্র করেই তাদের রাজনীতি ঘোরে।
আওয়ামী লীগ ছাড়া তাদের রাজনীতির কোনো বিষয় নেই—এটাই সবচেয়ে বড় দুর্বলতা।
আওয়ামী লীগসহ সব বড় দল ছাড়া নির্বাচন নয় — এই প্রহসন আমরা মানি না!
অংশগ্রহণহীন নির্বাচন মানে গণতন্ত্রহীনতা — আমরা তা গ্রহণ করি না!
সব দলের অংশগ্রহণ ছাড়া ভোট নয়, সরকার নয়, বৈধতা নয়!
একতরফা নির্বাচন নয় — জনগণের ভোটের অধিকার চাই!
গণতন্ত্র চাই, প্রহসন নয় — আওয়ামী লীগসহ সব দলের নির্বাচন চাই!
কারণ, একটি নির্বাচন তখনই প্রকৃত অর্থে গণতান্ত্রিক হয় যখন সেখানে সব প্রধান রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত থাকে। বড় কোনো দল নির্বাচনে অংশ না নিলে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকে না, ফলে জনগণের সামনে প্রকৃত বিকল্পের সুযোগ সৃষ্টি হয় না। এতে ভোটার উপস্থিতি কমে যায় এবং নির্বাচনের ফলাফল জনগণের প্রকৃত মতামত প্রতিফলিত করে না।
এছাড়া, একপাক্ষিক নির্বাচন দেশের ভেতরে রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি করে এবং আন্তর্জাতিকভাবে সেই নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়। গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি হলো জনগণের অংশগ্রহণ ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা—যা সব দলের অংশগ্রহণ ছাড়া সম্ভব নয়। তাই একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনের জন্য আওয়ামী লীগসহ সব বড় রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণ অপরিহার্য। অন্যথায় সেই নির্বাচন জনগণের আস্থা অর্জন করতে ব্যর্থ হবে এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া দুর্বল হয়ে পড়বে।
জনগণের ভোটাধিকার চাই — নৌকা ছাড়া নির্বাচন নয় ???
ডক্টর সফিকুর রহমানের নারীদের ঘরের বাইরে চলাচল সীমিত করার বক্তব্য শুধু একটি ভুল মন্তব্য নয়—এটি একটি ভয়ংকর মানসিকতার প্রকাশ।
এই বক্তব্য নারীদের ব্যক্তি হিসেবে অস্বীকার করার শামিল, মানবাধিকারের ওপর সরাসরি আঘাত, এবং একটি স্বাধীন সমাজের ভিত্তিকে নাড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা।
একবিংশ শতাব্দীতে দাঁড়িয়ে কেউ যদি বলে নারীর স্থান ঘরের ভেতরে, তাহলে সেটি মতামত নয়—সেটি এক ধরনের আদর্শিক সহিংসতা।
নারী কোনো সম্পত্তি নয়,
নারী কোনো বোঝা নয়,
নারী কারও দয়ার ওপর বেঁচে থাকা সত্তা নয়।
নারী একজন পূর্ণ মানুষ—নিজস্ব চিন্তা, স্বপ্ন ও সিদ্ধান্তের অধিকারী।
আজ নারী শিক্ষক, ডাক্তার, আইনজীবী, সাংবাদিক, কৃষক, শ্রমিক, বিজ্ঞানী, উদ্যোক্তা।
এই নারীদের ঘরে আটকে রাখার চিন্তা মানে গোটা সমাজকে অন্ধকার যুগে ফিরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা।
এই বক্তব্য ধর্ম নয়, রাজনীতি
এই ধরনের বক্তব্যকে অনেক সময় ধর্মের মোড়কে উপস্থাপন করার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু নারীর স্বাধীনতা খর্ব করা কোনো ধর্মীয় আদর্শ নয়—এটি ক্ষমতার রাজনীতি।
ধর্ম কখনো অন্যায়ের পক্ষে দাঁড়ায় না।
অন্যায়কে ধর্মের নামে বৈধতা দেওয়া সবচেয়ে বড় ভণ্ডামি।
সমাজের অর্ধেক মানুষকে থামিয়ে দিলে সমাজও থেমে যায়
একটি সমাজ যদি তার অর্ধেক জনগোষ্ঠীকে ঘরে বন্দি করে,
তাহলে সেই সমাজ কখনো উন্নত হতে পারে না,
সেই সমাজ কখনো ন্যায়ভিত্তিক হতে পারে না,
সেই সমাজ কখনো মানবিক হতে পারে না।
নারীর চলাচল সীমিত করা মানে—
শিক্ষা সীমিত করা,
অর্থনীতি সীমিত করা,
চিন্তাকে সীমিত করা,
ভবিষ্যৎকে সীমিত করা।
এই বক্তব্য বিপজ্জনক কেন?
কারণ এমন বক্তব্য:
নারীর প্রতি সহিংসতাকে উৎসাহিত করে পুরুষতান্ত্রিক দমননীতিকে শক্তিশালী করে তরুণদের মনে বিকৃত ধারণা তৈরি করে সমাজকে বিভক্ত করে মানবাধিকারের বিরুদ্ধে দাঁড়ায়
এটি শুধু একটি মন্তব্য নয়—এটি একটি রাজনৈতিক বার্তা। এবং সেই বার্তা হলো: নারীকে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।
এই চিন্তা আমরা প্রত্যাখ্যান করি।
আমার অবস্থান স্পষ্ট
আমি এই বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানাই।
আমি এই চিন্তাধারাকে ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করি।
আমি নারীর স্বাধীনতা, মর্যাদা ও সমানাধিকারের পক্ষে দৃঢ়ভাবে দাঁড়াই।
আমরা এমন বাংলাদেশ চাই না,
যেখানে মেয়েরা ভয় নিয়ে রাস্তায় হাঁটে,
যেখানে মেয়েদের স্বপ্নকে ‘অপরাধ’ বলা হয়,
যেখানে স্বাধীনতাকে ‘অশ্লীলতা’ বলা হয়।
আমরা এমন বাংলাদেশ চাই—
যেখানে নারী তার ইচ্ছেমতো চলবে,
পড়বে, কাজ করবে, নেতৃত্ব দেবে,
এবং মাথা উঁচু করে বাঁচবে।
শেষ কথা
নারীকে ঘরে বন্দি করার চিন্তা মানে সভ্যতার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা।
ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়ান কোম্পানি (১৭০০–১৮৫৮) মূলত ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে ভারতীয় উপমহাদেশে প্রভাব বিস্তার করত, কিন্তু ক্রমে এটি রাজনৈতিক ও সামরিক শক্তি ব্যবহার করে অঞ্চলগুলো নিয়ন্ত্রণে আনে। কোম্পানি প্রাকৃতিক সম্পদ, বাণিজ্যিক সুবিধা এবং কর আদায়ের মাধ্যমে স্থানীয় শাসকদের উপর প্রভাব বিস্তার করত। তার কৌশলগুলোকে মূলত কয়েকটি মূল দিক দিয়ে সংক্ষেপে বোঝা যায়:
অর্থনৈতিক প্রভাব: স্থানীয় কৃষক ও ব্যবসায়ীদের উপর কর আরোপ এবং মণি নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে কোম্পানি আয়ের বড় অংশ নিজের হাতে রাখত। এতে স্থানীয় জনগণের স্বাধীন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সীমিত হতো। রাজনৈতিক প্রভাব: স্থানীয় রাজা ও নায়কদের সাথে চুক্তি বা জোরপূর্বক নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে কোম্পানি রাজনৈতিক সিদ্ধান্তগুলো প্রভাবিত করত। এতে কোম্পানির স্বার্থের বিপরীতে স্থানীয় প্রশাসন সীমিতভাবে কাজ করতে পারত। সামরিক কৌশল: কোম্পানি শক্তিশালী সামরিক বাহিনী ও দস্যু নীতি ব্যবহার করে বিরোধী গোষ্ঠী দমন করত। স্থানীয় বিদ্রোহ দমন করা এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা বা বন্দরের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা ছিল তাদের কৌশলের অংশ।
যদি আজকের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের কথা ভাবি, “ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়ান কোম্পানির কায়দায়” বলতে বোঝানো যেতে পারে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক প্রভাবের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ বা প্রভাব বিস্তার করা, যেমন—বিদেশি সংস্থা বা রাজনৈতিক গোষ্ঠীর মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ শিল্প, সম্পদ বা নীতি প্রভাবিত করা। অর্থাৎ সরাসরি শাসন না করেও অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক দিক থেকে দেশে প্রভাব প্রতিষ্ঠা করা।
উপসংহারে বলা যায়, ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কায়দায় সরাসরি শাসন না হলেও অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক প্রভাবের মাধ্যমে একটি রাষ্ট্রকে নিয়ন্ত্রণ বা দুর্বল করার প্রবণতা আজও বিদ্যমান। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এই ধরনের প্রভাব যদি অনিয়ন্ত্রিতভাবে বৃদ্ধি পায়, তবে জাতীয় স্বাধীনতা ও আত্মনির্ভরশীলতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। অতএব, শক্তিশালী অর্থনীতি, স্বচ্ছ প্রশাসন ও সচেতন নাগরিক সমাজ গড়ে তোলাই এই সম্ভাব্য সংকট মোকাবিলার প্রধান উপায়।
২০২৪ সালের পর বাংলাদেশ একটি গভীর রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক সংকটের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করছে। এই অস্থিতিশীলতা রাষ্ট্রীয় কাঠামোর কার্যকারিতা দুর্বল করে তুলেছে এবং সাধারণ জনগণের জীবনযাত্রায় চরম অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করেছে। জাতীয় উন্নয়ন প্রক্রিয়া এই সংকটের ফলে মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
প্রথমত, রাজনৈতিক অস্থিরতা দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতিকে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। রাজনৈতিক সংঘাত, আন্দোলন এবং সহিংসতার কারণে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। প্রশাসনিক কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হওয়ায় সরকারি সেবা প্রদান প্রক্রিয়া দুর্বল হয়ে পড়েছে। রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা বিদেশি বিনিয়োগ ও অভ্যন্তরীণ শিল্পখাতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে, যার ফলে উৎপাদন ও কর্মসংস্থান উভয় ক্ষেত্রেই স্থবিরতা দেখা দিয়েছে।
দ্বিতীয়ত, অর্থনৈতিক সংকট অস্থিতিশীলতাকে আরও তীব্রতর করেছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি এবং বৈদেশিক মুদ্রার ঘাটতি সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতাকে মারাত্মকভাবে হ্রাস করেছে। নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণি নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য সংগ্রহে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। একই সঙ্গে বেকারত্ব বৃদ্ধি পাওয়ায় তরুণ সমাজের মধ্যে হতাশা ও অসন্তোষ ব্যাপক আকার ধারণ করেছে, যা সামাজিক অশান্তির ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলছে।
তৃতীয়ত, সামাজিক অস্থিরতা ও নৈতিক অবক্ষয় পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষাকার্যক্রম বিঘ্নিত হওয়া, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের বিস্তার এবং অপরাধপ্রবণতার বৃদ্ধি সমাজে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করেছে। মানুষের মধ্যে পারস্পরিক আস্থার অভাব দেখা দিচ্ছে, যা সামাজিক সংহতিকে দুর্বল করে তুলছে।
চতুর্থত, প্রশাসনিক দুর্বলতা ও সুশাসনের অভাব সংকটকে দীর্ঘস্থায়ী করছে। দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং আইনের শাসনের দুর্বল প্রয়োগ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি জনগণের আস্থা হ্রাস করেছে। ফলে রাষ্ট্র ও নাগরিকের মধ্যে দূরত্ব সৃষ্টি হচ্ছে, যা গণতান্ত্রিক কাঠামোর জন্য একটি গুরুতর হুমকি।
উপসংহারে বলা যায়, ২০২৪ সালের পর বাংলাদেশের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি একটি বহুমাত্রিক সংকটে রূপ নিয়েছে। রাজনৈতিক অচলাবস্থা, অর্থনৈতিক দুরবস্থা, সামাজিক অবক্ষয় এবং প্রশাসনিক অকার্যকারিতা একত্রে রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতাকে চরমভাবে বিপন্ন করছে। এই সমস্যাগুলো অব্যাহত থাকলে দেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন, মানবসম্পদ গঠন এবং সামাজিক শান্তি মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়বে। অতএব, বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতি বাংলাদেশের জন্য একটি গভীর জাতীয় সংকট হিসেবে বিবেচিত হওয়া উচিত।
বাংলাদেশের স্বাধীনতার নেতৃত্বদানকারী এবং সর্বাধিক জনসমর্থিত রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে কোনো নির্বাচনই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। ১২ই ফেব্রুয়ারির যে প্রক্রিয়াকে নির্বাচন বলা হচ্ছে, তা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করবে না; বরং গণতন্ত্রকে বিলুপ্ত করার পথ প্রশস্ত করবে।
গণতন্ত্র কি সত্যিই প্রতিষ্ঠিত হবে, নাকি বিলুপ্তির পথে?
বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় একটি প্রশ্ন বারবার সামনে আসে—যে নির্বাচন প্রক্রিয়া থেকে দেশের সবচেয়ে বড় ও ঐতিহাসিক রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগকে বাদ দেওয়া হচ্ছে, সেটাকে আদৌ নির্বাচন বলা যায় কি?
বাংলাদেশের স্বাধীনতার নেতৃত্বদানকারী দল আওয়ামী লীগ শুধু একটি রাজনৈতিক সংগঠন নয়; এটি এই দেশের ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধ এবং গণতান্ত্রিক সংগ্রামের অবিচ্ছেদ্য অংশ। দীর্ঘদিন ধরে এই দলটি দেশের সর্বাধিক সংখ্যক মানুষের সমর্থন নিয়ে রাজনীতিতে সক্রিয়। এমন একটি দলকে বাদ দিয়ে যদি কোনো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, তবে তা জনগণের প্রকৃত মতামতের প্রতিফলন হতে পারে না।
১২ই ফেব্রুয়ারিতে যে নির্বাচন আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, সেটিকে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে এতে রাজনৈতিক ভারসাম্য ও অংশগ্রহণের ঘাটতি রয়েছে। ফলে এটিকে একটি পূর্ণাঙ্গ গণতান্ত্রিক নির্বাচন হিসেবে বিবেচনা করা কঠিন হয়ে পড়ে। রাজনৈতিক বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে, এ ধরনের নির্বাচনকে সাধারণত “অসম্পূর্ণ নির্বাচন” (partial election) বলা হয়, যেখানে প্রতিযোগিতা থাকলেও তা সমান ও সর্বজনগ্রাহ্য নয়।
এই কারণেই আমি মনে করি, “ভোটকেন্দ্রে যাব না, ভোটও দেব না”—এটা কেবল একটি ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নয়, এটি একটি প্রতিবাদ। এটি এমন এক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ, যা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার বদলে গণতন্ত্রকে ধীরে ধীরে বিলুপ্তির দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
গণতন্ত্র কখনো একপাক্ষিক হতে পারে না। গণতন্ত্র মানে বহুমত, বহুদল, ও অংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়া। আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, তা এই মৌলিক নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এতে রাজনৈতিক বিভাজন আরও গভীর হবে, জনগণের আস্থা কমবে এবং ভবিষ্যতে রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়বে।
আজ আমাদের প্রশ্ন করা উচিত—আমরা কি কেবল একটি তারিখে নির্বাচন সম্পন্ন করতে চাই, নাকি সত্যিকার অর্থে গণতান্ত্রিক একটি প্রক্রিয়া চাই? যদি উত্তর দ্বিতীয়টি হয়, তবে সকল প্রধান রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা ছাড়া কোনো নির্বাচনই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, গণতন্ত্র কখনো বর্জনের মাধ্যমে শক্তিশালী হয়নি। বরং সংলাপ, অংশগ্রহণ ও সহনশীলতার মাধ্যমেই গণতন্ত্র টিকে থাকে। সুতরাং ১২ই ফেব্রুয়ারির নির্বাচন যদি এই মূল্যবোধ ধারণ করতে না পারে, তবে সেটি গণতন্ত্রের বিজয় নয়—গণতন্ত্রের পরাজয় হিসেবেই বিবেচিত হবে।সুতরাং প্রশ্নটি কেবল একটি নির্বাচনের নয়; প্রশ্নটি গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ পথচলা নিয়ে। নির্বাচন যদি অন্তর্ভুক্তিমূলক, প্রতিযোগিতামূলক ও অংশগ্রহণমূলক না হয়, তবে তা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার বদলে গণতান্ত্রিক সংকটকে আরও গভীর করতে পারে।